২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪১ পি.এম

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।

মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ লাভ করেন মতিউর রহমান। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকায় জন্ম নেওয়া মতিউর রহমান পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি এফ-৮৬ যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষক ও উড্ডয়ন নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মাতৃভূমির স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। ওই বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বার্ষিক ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঢাকায় আসার পর আর পাকিস্তানে কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাননি। পরে নরসিংদীর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

দেশের জন্য সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান থেকে একটি বিমান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন মতিউর রহমান। ৯ মে ১৯৭১ তিনি সপরিবারে পাকিস্তানে কর্মস্থলে ফিরে যান। সেখানে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কয়েকজন বাঙালি কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর পরিকল্পনা চলতে থাকে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে পাঞ্জাবি পাইলট কর্মকর্তা রাশেদ মিনহাজকে সঙ্গে নিয়ে টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে ভারতের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেন মতিউর রহমান। বিমানের পরিচিতি ছিল ‘ব্লু বার্ড-১৬৬’। বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিন এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে দুজনই নিহত হন।

শহীদ হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার মতিউর রহমানের মরদেহ করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণির কবরস্থানে দাফন করে। দীর্ঘদিন পাকিস্তানেই থেকে যায় তাঁর কবর। পরিবারের সদস্যদের জন্যও সেখানে গিয়ে কবর জিয়ারত করা সহজ ছিল না।

২০০৬ সালে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ। ২৪ জুন রাতে তাঁর দেহাবশেষ ঢাকায় পৌঁছায়। পরদিন ২৫ জুন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে পুনরায় দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মতিউর রহমানের আত্মত্যাগ বিশেষভাবে স্মরণীয়। পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজের মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

আজ তাঁর ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানকে। তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে দেশপ্রেম ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।