২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পি.এম

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর–লুটপাট: মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর–লুটপাট: মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মিজানুর রহমানের (লাভলু) বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর স্ত্রী মেহেরুনেচ্ছা দাবি করেছেন, লিখিত এজাহার নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

কাজী মিজানুর রহমান উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাড়িতে হামলা, লুটপাট এবং পরে বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মেহেরুনেচ্ছার ভাষ্য, গত সোমবার তিনি একটি লিখিত এজাহার নিয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামানের কাছে যান এবং মামলা নথিভুক্ত করার অনুরোধ করেন। তাঁর দাবি, ওসি এজাহারের কপি গ্রহণ করেননি এবং মামলা নিতেও অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে মামলা দায়ের না করেই তাঁকে ফিরে আসতে হয়।

অন্যদিকে, ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মেহেরুনেচ্ছা তাঁর কাছে এসেছিলেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি এবং মামলা নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেননি।

মেহেরুনেচ্ছা আরও দাবি করেন, তাঁর লিখিত অভিযোগে বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী পাশা, সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার, সাবেক সভাপতি হাসিবুল গনি মনির খন্দকার, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মিরাজ হোসেন এবং বিএনপির কর্মী মোতাহার হোসেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।