২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ পি.এম

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন: মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল সাহাবুদ্দিনের

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন: মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল সাহাবুদ্দিনের

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তিনি সব সময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।”

স্পিকার জানান, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে পৌঁছায়। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা ইসম্ভব হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত স্বাস্থ্যগত কারণগুলোর কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে তা সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানান স্পিকার। তিনি বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও তিনি নিয়েছিলেন। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন—এমন সাংবিধানিক বিধানও রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জলের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও বাস্তবে রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই লিখিতভাবে তাঁর অসুস্থতার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং এ জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা সনদের প্রয়োজন নেই।

স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে ঘিরে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা বা বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। তাঁর মতে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এ বিষয়ে বিদ্যমান বিভ্রান্তির অবসান হবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।