ঢাকা: সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ রোগের কারণে তিনি প্রায়ই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই অটোনমিক নিউরোপ্যাথি সম্পর্কে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের একটি রোগ। এই স্নায়ুতন্ত্র শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—যেমন হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, পাকস্থলী, অন্ত্র, কিডনি, মূত্রথলি, জননেন্দ্রিয় ও রক্তনালীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এসব স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তানজিনা হোসেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অটোনমিক নিউরোপ্যাথির অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া অ্যামাইলোডোসিস, কিছু স্নায়ুরোগ, সংক্রমণ-পরবর্তী জটিলতা, অটোইমিউন রোগ এবং কেমোথেরাপির পরও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ রোগে আক্রান্ত হলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের কার্যক্রম ধীর হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার হজমে সমস্যা বা ডায়রিয়া হতে পারে। মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা কিংবা মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশনও এ রোগের একটি সম্ভাব্য জটিলতা।
অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলে। ফলে বিশ্রাম অবস্থাতেও হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া শোয়া বা বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে গিয়ে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ‘পোসচুরাল হাইপোটেনশন’ বলা হয়।
এ ছাড়া ত্বকের ঘাম নিয়ন্ত্রণ ও তাপমাত্রা অনুভবের ক্ষমতাও ব্যাহত হতে পারে। এতে অতিরিক্ত বা কম ঘাম, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং গরম-ঠান্ডা অনুভবের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অটোনমিক নিউরোপ্যাথির স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এবং জটিলতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানো, প্রয়োজন হলে সহায়ক উপকরণ ব্যবহার, মূত্রথলির সমস্যায় উপযুক্ত চিকিৎসা, অন্ত্রের সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।