১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ পি.এম

ময়মনসিংহে রাব্বি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে রাব্বি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দায় রাব্বি হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহে র‌্যাব-১৪-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, মাসকান্দা এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস রোডে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাব্বি (২৫) ময়মনসিংহ নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন।

র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন আবদুল খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাব্বির পক্ষের লোকজন ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ করেছেন খালেক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‌্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবদুল খালেক দাবি করেন, নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই রাব্বিকে হত্যা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে তার ভাইও জড়িত ছিলেন। তবে তার এসব বক্তব্যকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ বা দাবি হিসেবেই বিবেচিত হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‌্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশও অভিযান চালাচ্ছে।

NBB সম্পাদকীয় নোট: র‌্যাব ও পুলিশের বক্তব্য এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবিকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা ও হত্যাকাণ্ডে অন্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকায় এসব তথ্যকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।