সম্প্রতি প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে লেখক দেবাশীষ রায় ও হরিপূর্ণ ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উন্নয়ন নীতি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।
লেখকদের মতে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলে প্রতি বর্ষায় বন্যা ও পাহাড়ধস এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট একটি পুনরাবৃত্ত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধু অতিবৃষ্টি বা জলবায়ু পরিবর্তন নয়; অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, অবকাঠামো নির্মাণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিবেশগত জ্ঞানকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াও এ সংকটের অন্যতম কারণ।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতির শিকড় ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতির মাধ্যমে আরও জটিল হয়েছে। লেখকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নীতির ফলে বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে।
তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট, সড়ক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের সময় পাহাড়ের ভঙ্গুর পরিবেশ ও স্থানীয় বাস্তবতাকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, বন উজাড় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে নিবন্ধে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
লেখকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের বনসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও হালদাসহ গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর উৎস ও প্রবাহপথ হিসেবে জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বি:দ্র:: এটি লেখকদের মতামত ও বিশ্লেষণভিত্তিক নিবন্ধ। এতে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকদের নিজস্ব; এটি কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক উপসংহার হিসেবে উপস্থাপিত নয়।



