রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও হজসহ ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় নির্ধারণ হয় হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী। তবে প্রতি বছর নতুন হিজরি মাসের চাঁদ দেখা, বিশেষ করে রমজান ও দুই ঈদের চাঁদ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মতপার্থক্য দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতির পরও এই বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্যোতির্বিজ্ঞানে ‘নতুন চাঁদ’ বলতে সেই মুহূর্তকে বোঝায় যখন সূর্য ও চাঁদ একই দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করে এবং চাঁদ পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান থাকে না। অপরদিকে ইসলামি পরিভাষায় নতুন মাস শুরু হয় তখন, যখন সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে প্রথমবারের মতো সরু চাঁদ দৃশ্যমান হয়। ফলে এই দৃশ্যমানতা ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং সূর্যাস্তের সময়ের ওপর নির্ভরশীল।
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৯ নম্বর আয়াতে নতুন চাঁদকে মানুষের সময় নির্ধারণ এবং হজের জন্য নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সহিহ বুখারির একটি হাদিসে চাঁদ দেখে রোজা শুরু ও শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই “দেখা” শব্দটির ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। একদল সরাসরি চোখে চাঁদ দেখাকে গুরুত্ব দেন, অন্যদিকে আরেকদল আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে গ্রহণযোগ্য সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন।
চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি কমাতে ১৯৭৮ সালে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কিছু প্রযুক্তিগত মানদণ্ড প্রস্তাব করা হয়। সেখানে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের ন্যূনতম উচ্চতা এবং সূর্য-চাঁদের মধ্যকার নির্দিষ্ট কৌণিক দূরত্বের ভিত্তিতে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসব মানদণ্ড ব্যবহার করলেও কিছু অঞ্চলে ভিন্ন মানদণ্ডও অনুসরণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে চাঁদের অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হলেও, শরিয়াহর ব্যাখ্যা ও ফিকহভিত্তিক মতপার্থক্যের কারণে হিজরি মাস শুরুর বিষয়ে সব দেশের মধ্যে এখনো একক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে রোজা ও ঈদ পালনের তারিখে পার্থক্য দেখা যায়।



