২০২৭ সালের পবিত্র হজ উপলক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে শনিবার অর্ধদিবসব্যাপী হাজী সম্মেলন ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ইন্টারন্যাশনাল।
মক্কা প্রবাসী ও সায়েম ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ।
সম্মেলনে বক্তারা হজযাত্রার প্রস্তুতি, নিবন্ধন, সৌদি আরবে অবস্থান এবং প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, হজে যেতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা উচিত এবং অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হজ প্যাকেজ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সরকার ঘোষিত সময় অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হজ নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। এরপর সময় বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাই আগ্রহীদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর কমমূল্যের আকর্ষণীয় প্যাকেজের বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক হজযাত্রী প্রতারণার শিকার হন। আবার সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে কোরবানি, মানি এক্সচেঞ্জ বা খাবারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটে। এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতেই ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে সায়েম ট্রাভেলস।
তিনি দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। হারাম শরিফের কাছাকাছি আবাসন, উন্নতমানের বাংলা খাবার এবং নিরাপদ যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে জামিল মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মুফতি আতাউল্লাহ নিজামী, মহাস্থান মাহি সওয়ার ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মর্তুজা আলী রেজা, বগুড়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ, মালয়েশিয়া প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বগুড়ার সভাপতি আবু মোত্তালিব মানিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তব্য দেন।
সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক রেদওয়ান রাকিবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক, ইসলামিক চিন্তাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হজযাত্রীরা অংশ নেন।



