নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত উপত্যকার বিভিন্ন বসতিতে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকায় এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা ও সীমান্তপারের তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা আঘাত হানার আগে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিটেরও কম সময় পেয়েছিলেন।
নেপালি প্রশাসনের দাবি, সীমান্তঘেঁষা হিমবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে চীন থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া যায়নি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের জলসম্পদবিদ সৌহার্দ্র যোশি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের হিমবাহগুলোর অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম তথ্যের প্রয়োজন থাকলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধরম রাজ উপ্রেতি ব্লুমবার্গকে বলেন, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় নিজস্ব আবহাওয়া স্টেশন না থাকায় সীমান্তপারের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রয়োজনীয় সংযোগ ও তথ্য বিনিময়ের অভাবে দুর্যোগের অন্তত পাঁচ মিনিট আগেও মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তবে নেপালি কর্তৃপক্ষের এ অভিযোগ সরাসরি খণ্ডন করেছে চীন। কাঠমান্ডু ও তেহরানস্থ চীনা দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গত মে মাসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো নেপালকে জানানো হয়েছে।
বন্যার ব্যাপকতার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিব্বত মালভূমিজুড়ে হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদের ভৌগোলিক জরিপ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে



