বগুড়ার শাহজাহানপুরে ‘গ্রীন গার্ডেন’ রিসোর্টে ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৩টা থেকে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বগুড়ার শেরপুর, শাহজাহানপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুট হওয়া তিনটি ওয়াল ফ্যান ও ৪২ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শাহজাহানপুর উপজেলার সরদারপাড়ার আল আমিন (৪১), পূর্ব গোদারপাড়ার বাবলু প্রাং (৫০) এবং পাবনার বেড়া উপজেলার নাকালিয়া গ্রামের তামিম হাসান হৃদয় (২৫)।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই রাতে শাহজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকায় গ্রীন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘গ্রীন গার্ডেন’ রিসোর্টে একদল দুর্বৃত্ত তালা ভেঙে প্রবেশ করে। তারা রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মচারীদের মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পরে দুর্বৃত্তরা রিসোর্ট থেকে ২০টি ওয়াল ফ্যান, গ্যাসের চুলা, ১২ ভোল্টের একটি বড় ব্যাটারি এবং তিনটি ট্রান্সফরমারের বৈদ্যুতিক কয়েলসহ প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানায় ডিবি।
এ ঘটনায় ১ আগস্ট শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় বগুড়া ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল বাহারের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফজলুল হকের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে প্রথমে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাবলু প্রাংকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবলুর শয়নকক্ষ থেকে তিনটি পুরোনো সাদা রঙের ওয়াল ফ্যান উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এরপর বাবলু প্রাংয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী বিমান মোড় এলাকার একটি ভাঙারি দোকান থেকে তামিম হাসান হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ট্রান্সফরমারে ব্যবহৃত ৪২ কেজি তামার তার উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আল আমিনের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা এবং বাবলু প্রাংয়ের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি ও অস্ত্রসহ ছয়টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।



