আর্কাইভ
logo
ads

গ্যাস সরবরাহ সংকট

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে দীর্ঘ লাইনে সিএনজি, বাড়তি ভাড়া গুনছেন যাত্রীরা

গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকেরা; প্রভাব পড়েছে যাত্রী, বাসাবাড়ি ও শিল্পখাতে।

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশকাল: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পি.এম
চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে দীর্ঘ লাইনে সিএনজি, বাড়তি ভাড়া গুনছেন যাত্রীরা

গ্যাসের সংকটে চট্টগ্রামের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন অটোরিকশার চালকেরা।

চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস–সংকটের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে তাঁদের কর্মঘণ্টা ও আয়। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্যাস–সংকটের প্রভাব আবাসিক গ্রাহক ও শিল্পকারখানাতেও পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চালকদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। চালক মোহাম্মদ ফারুক জানান, ভোরে একাধিক স্টেশনে গিয়েও গ্যাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ষোলোশহরের একটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়ান। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তিনি গ্যাস পাননি। তাঁর ভাষ্য, প্রতিদিন নির্ধারিত জমা দিতে হলেও গ্যাসের জন্য কর্মঘণ্টার বড় অংশ নষ্ট হওয়ায় আয় কমে যাচ্ছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন চালক। তাঁদের দাবি, গ্যাসের জন্য তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু চালক অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

যাত্রী রিজওয়ান উদ্দিন বলেন, সাধারণ সময়ে যে পথে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া লাগে, সেখানে তাঁকে ১৭০ টাকা দিতে হয়েছে। চালক গ্যাস–সংকটের কথা উল্লেখ করে আরও কিছু টাকা বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নগরের আরও কয়েকজন যাত্রী।

গ্যাস–সংকটের প্রভাব বাসাবাড়িতেও পড়েছে। দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ঝরনা বড়ুয়া জানান, রাতে ও সকালে গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হয়নি। ফলে না খেয়েই কর্মস্থলে যেতে হয়েছে এবং তাঁর সন্তানও না খেয়ে স্কুলে গেছে। বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা সুলতানা জাহানও জানান, দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় পরিবারের জন্য বাইরে থেকে খাবার আনতে হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, আগ্রাবাদ, হালিশহর, আনন্দবাজার, বাকলিয়া, পতেঙ্গাসহ নগরের অর্ধশতাধিক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস–সংকটে ভুগছেন। নগরের বাইরের বিভিন্ন এলাকাতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কেজিডিসিএল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেয়েছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা অন্তত ৩৫ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কোম্পানির সূত্র বলছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে।

কেজিডিসিএলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের স্বল্পতার কারণে পেট্রোবাংলার বরাদ্দ অনুযায়ী চট্টগ্রামে লোড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বড় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহও কমানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছে। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে এবং বিদেশি ও দেশীয় প্রকৌশলীরা যৌথভাবে কাজ করছেন। তাঁর আশা, দু–এক দিনের মধ্যে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরও কিছু সময় লাগবে।

এই বিভাগের আরও খবর

NBB

NBB

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ